জামদানি শাড়ি

আসল জামদানি শাড়ি চেনার উপায়

জামদানি শাড়ি চেনার উপায়

জামদানি শাড়ি, বাঙালি নারি মানেই শাড়ি। এখনকার মেয়েরা যতই মর্ডান হোক, মেয়েদের শারিতেই বেশি ভালো লাগে। আর মেয়রাও সাধারনত শাড়িপ্রেমি হয়ে থাকে। আর শাড়ি প্রেমি মেয়রের পছন্দের তালিকায় জামদানি শাড়ি থাকবে না এটা হতেই পারে না। সুন্দর ডিজাইনের কারনেই এই শাড়ি সকল শাড়ি প্রেমিদের কাছে এত প্রিয়।

কিন্তু বাজারে অনেকেই জামদানি শাড়ির নামে নকল শাড়ি বিক্রি করে থাকেন। অনেককে এমন শাড়ি কিনে ঠকতে হয়েছে। 

অনেক বিক্রেতারা জামদানি  শাড়ির নামে ভারতীয় কটন, টাঙ্গাইলের তাঁত, পাবনা ও রাজশাহীর সিল্ক শাড়ি বিক্রি করে থাকেন। তাই আসল জামদানি শাড়ি চেনাটা খুব জরুরি।

তাহলে চলুন যেনে নেই কিভাবে আসল জামদানি শাড়ি চিনব।

 জামদানি শাড়ি হাতে বোনা হয়, যার ফলে শাড়ির ডিজাইন খুব সূক্ষ্ম, নিখুঁত ও মসৃণ হয়ে থাকে। 

জামদানি শাড়ির কারিগররা এই শাড়ি হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বুনে থাকেন, যার ফলে সুতার কোন অংশ বের হয়ে থাকে না, এতে করে শাড়ির সামনের ও ভেতরের অংশ বুঝা কঠিন।

আর মেশিনের বোনা শাড়িতে শুধুমাত্র সেইম নকশা দেয়া হয় কিন্তু এই শারিতে অপর পাশের সুতা বের হয়ে থাকে।

 আরেক ভাবেও জামদানি শাড়ি চিনতে পারেন, সেটা হল এর সূতার এবং কাজের মসৃণতা দেখে। জামদানি শাড়িতে সুতি ও সিল্ক সূতা ব্যাবহার করে থাকেন।

সূতার দিক থেকে জামদানি শাড়ি তিন ধরনের হয়ে থাকে,

যেমনঃ ফুল কটন জামদানি শাড়িতে তুলার সুতা ব্যাবহার করা হয়, হাফ সিল্ক জামদানি শাড়ির আড়াআড়ি দিকে ব্যাবহার করা হয় রেশমের সূতা আর লম্বালম্বি দিকে ব্যাবহার করা হয় তুলার সূতা আর ফুল সিল্ক শাড়িতে ব্যবহার করা হয় রেশমের সূতা দুই দিকেই।

তাই সূতার মান যাচাই করে নিন, যেমন শাড়ির আঁচলের শেষে যেই সূতা বের হয়ে থাকে সেগুলো ভালো করে দেখে নিবেন।

ঢাকাই জামদানি শাড়ি

জামদানি শাড়িতে যে সিল্ক সূতা ব্যাবহার করা হয় তাতে মাড় দেয়া হয় তাই এই সূতা অমসৃণ হয়ে থাকে।

পিওর সিল্ক সূতা একটু টানাটানি করলে ছিঁড়ে যায় আর আগুনে পোড়ালে চুল পোড়া গন্ধ আসে।

আঁচলের শেষ প্রান্তের সূতাগুলো আঙ্গুল দিয়ে মোড়িয়ে দেখুন যদি সূতা গুলো জড়িয়ে যায়, তাহলে সেই

শাড়িটি সিল্ক সূতা দিয়ে তৈরি, আর যদি সূতা গুলো সমান থাকে তাহলে সেটা নাইলন সূতা দিয়ে তৈরি।

 

জামদানি শাড়ি আসলে কাজের সূক্ষ্মতার উপর নির্ভর করে। আর শাড়ির সূক্ষ্মতা নির্ভর করে সূতা এবং তাতির দক্ষতার উপরে। যেই শাড়ি যত সুক্ষ্ম তার দাম তত বেশি কারন এটি বুন্তে সময় লাগে বেশি।

জামদানি শাড়ির কোমরে গুঁজে রাখার অংশটুকুতে সাড়ে পাঁচ হাত পর্যন্ত কোন পাড় বোনা থাকে না। কিন্তু মেশিনে বোনা শাড়িতে পাড় দেয়া থাকে।

হাতের জামদানি শাড়ির ওজন হালকা হয়ে থাকে এবং পরতেও আরামদায়ক হয়ে থাকে। আর মেশিনে বোনা শাড়ি কৃত্রিম সুতায় তৈরি হয়ে থাকে তাই এই শাড়িগুলো হয় ভারি এবং খসখসে হয়ে থাকে।

এভাবেই আপনি আসল ও নকল জামদানি শাড়ি চিনতে পারবেন অথবা বাছাই করতে পারবেন।

থ্রিপিসের গুনগত মান চেনার উপায়, থ্রি পিস ডিজাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *